পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) কর্তৃক বাস্তবায়িতব্য Pathways to Prosperity for Extremely Poor People (PPEPP) প্রকল্পের ওয়েবসাইটে আপনাকে স্বাগতম। [This page is under-construction]

কর্মসৃজনের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে ১৯৯০ সালে সরকার কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউণ্ডেশন (পিকেএসএফ)-এর যাত্রা শুরু। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই সরকারি ও বিদেশী উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানসমূহের অর্থায়নে দারিদ্র্য বিমোচনমূলক নানাবিধ উদ্যোগ বাস্তবায়নে সাফল্যের স্বাক্ষর রেখে আসছে প্রতিষ্ঠানটি। কালক্রমে পিকেএসএফ-এর টেকসই দারিদ্র্য দূরীকরণ প্রচেষ্টার আওতায় এসেছে মানবকেন্দ্রিক বহুমুখী উন্নয়ন প্রয়াস; যার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে জীবিকায়নের সাথে সংযুক্ত হয়েছে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সামাজিক সচেতনতা, দুর্যোগ মোকাবেলা, নারীর ক্ষমতায়নের মতো সমন্বিত নানা উদ্যোগ।

দেশের উত্তর-পশ্চিমের নদী বিধৌত চরাঞ্চল ও বন্যাকবলিত নদী তীরবর্তী এলাকার অধিকাংশ অতিদরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মান অনুন্নত। উত্তর-পূর্বের দুর্গম ও অতিবন্যাপ্রবণ হাওর এলাকায় বসবাসকারী বিস্তীর্ণ জনগোষ্ঠীর অবস্থাও প্রায় একই। অন্যদিকে, ঘূর্ণিঝড়, জলচ্ছ্বাস, জলাবদ্ধতা ও লবণাক্ততা তথা প্রাকৃতিক দুর্যোগ অধ্যুষিত দক্ষিণ-পশ্চিমের উপকূলীয় এলাকার অতিদরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনও সঙ্কটাপন্ন। এসব এলাকার অতিদারিদ্র্য টেকসইভাবে দূরীকরণে প্রয়োজন সমন্বিত উন্নয়ন কার্যক্রম। সেই অভিপ্রায় থেকেই শুরু হতে যাচ্ছে Pathways to Prosperity for Extremely Poor People (PPEPP) শীর্ষক একটি নতুন প্রকল্প। যুক্তরাজ্য সরকারের ’ডিপার্টমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট (ডিএফআইডি)‘ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন অর্থায়িত প্রকল্পটির মূল বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে থাকছে পিকেএসএফ।

PPEPP প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে মোট ৬টি কম্পোনেন্টের সমন্বয়ে। পিকেএসএফ বাস্তবায়ন করবে Livelihood, Nutrition ও Community Mobilization কম্পোনেন্ট। অপরদিকে, Market Development, Policy Advocacy এবং Life Cycle Grant Pilot কম্পোনেন্টগুলো বাস্তবায়ন করবে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট অন্যান্য অংশীদার প্রতিষ্ঠান। পিকেএসএফ পরিচালিত Livelihood কম্পোনেন্টের আওতায় মূলতঃ থাকবে উপযুক্ত আর্থিক পরিষেবা (অনুদান ও নমনীয় ঋণ) এবং দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ। এই কম্পোনেন্টের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে যুক্ত হবে ভ্যালু চেইন উন্নয়ন কার্যক্রম, যা স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে পণ্যের উৎপাদন ও গুণগতমান বৃদ্ধি এবং বাজার সম্প্রসারণের মাধ্যমে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা সৃষ্টির পথ সুগম করবে। Nutrition কম্পোনেন্টের মাধ্যমে সরকারি পুষ্টি কার্যক্রমের সাথে সমন্বয় রেখে অতিদরিদ্র পরিবারের মা, শিশু ও কিশোরীসহ অন্যান্য সদস্যদের স্বাস্থ্য উন্নয়নের ওপর বিশেষ জোর দেয়া হবে। সমাজে প্রচলিত যেসব নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি নারী, প্রতিবন্ধীসহ পিছিয়েপড়া জনগোষ্ঠীর আয় বৃদ্ধিমূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ, সম্পদের ওপর অধিকার প্রতিষ্ঠা, সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা ও সরকারি সেবায় প্রবেশগম্যতার পথে অন্তরায় সৃষ্টি করে তা পরিবর্তনে পরিচালিত হবে Community Mobilization কম্পোনেন্ট। এছাড়া, স্থানীয় পর্যায়ে বিদ্যমান সম্পদের ন্যায়সঙ্গত ব্যবহার নিশ্চিতকরণ এবং বরাদ্দ বৃদ্ধির প্রচেষ্টায় স্থানীয় সরকার ও প্রশাসনের সাথে সমন্বয় সাধন করবে এই কম্পোনেন্ট। এসব কম্পোনেন্টের আন্তঃসম্পর্কযুক্ত বিষয় হিসেবে দুর্যোগ ও জলবায়ু অভিযোজন, প্রতিবন্ধিতা এবং নারীর ক্ষমতায়নের মাধ্যমে জেন্ডার সমতা অর্জন – এই তিনটি ক্রস কাটিং ইস্যু (Cross-cutting Issue) গুরুত্ব সহকারে বিবেচিত হবে।

প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে (২০১৯ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত) জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী আড়াই লক্ষ অতিদরিদ্র পরিবারভুক্ত ১০ লাখ মানুষের টেকসই উন্নয়নে কাজ করবে PPEPP. পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই ছয় বছরে তিন লাখ ৫৭ হাজার নারী, কিশোরী ও শিশু পাবে উন্নত পুষ্টি সেবা। নিশ্চিত হবে, এক লক্ষ ২৫ হাজার নারীর সামাজিক মর্যাদা ও পারিবারিক ক্ষমতায়ন। প্রকল্পের এ পর্যায়ের জন্য নির্ধারিত বাজেট ১০৯.৬ মিলিয়ন পাউন্ড স্টার্লিং, যার সম্পূর্ণটাই অনুদান। এর মধ্যে ডিএফআইডি প্রদান করবে ৮০ মিলিয়ন পাউন্ড স্টার্লিং এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন ২৯.৬ মিলিয়ন পাউন্ড স্টার্লিং। এক্ষেত্রে, পিকেএসএফ-এর জন্য বরাদ্ধ থাকছে ৬৩.৫ মিলিয়ন পাউন্ড স্টার্লিং। প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের সন্তোষজনক অগ্রগতি বিবেচনায় দ্বিতীয় পর্যায়ে ৫ বছর মেয়াদে (২০২৪ থেকে ২০২৯ সাল পর্যন্ত) আরও আড়াই লক্ষ পরিবারভুক্ত ১০ লাখ অতিদরিদ্র মানুষকে প্রকল্পভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

উল্লেখ্য, PPEPP প্রকল্প বাস্তবায়নে বিগত ১৭/১২/২০১৮ তারিখে ডিএফআইডি এবং বাংলাদেশ সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের মধ্যে একটি Memorandum of Understanding (MoU) ইতোমধ্যে স্বাক্ষরিত হয়েছে। এছাড়া, সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থবিভাগ-এর সাথে পিকেএসএফ বিগত ০৫/০৩/২০১৯ তারিখে একটি Subsidiary Grant Agreement স্বাক্ষর করেছে। এরই ধারাবাহিকতায়, ৩১ মার্চ ২০১৯ তারিখে ডিএফআইডি বাংলাদেশ এবং পিকেএসএফ-এর মধ্যে আরেকটি MoU স্বাক্ষরিত হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। চুক্তিটি সম্পন্ন হলে আগামী ০১/০৪/২০১৯ তারিখে প্রকল্পটির যাত্রা শুরু হবে।